প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়নের নামে টাকা আত্মসাৎ!

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি | 
  

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ও সদর উপজেলায় দায়সারা ভাবে কাজ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিদ্যালয়গুলোতে বড় মেরামত, স্লিপ, রুটিন, পার্ক, ওয়াস-ব্লক ও প্রাক-প্রাথমিক প্রকল্পের টাকা বরাদ্দ আসে।  কিন্তু দুই উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ে নামমাত্র কাজ করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

করোনার সময়ে স্কুলগুলো বন্ধ থাকায় প্রধান শিক্ষকরা দায়সারা ভাবে কাজ করেছেন। সরেজমিনে নাগেশ্বরী উপজেলার হাজিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাঙ্গামোড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ,উত্তর সুখাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালাটারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুটি বাগডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে জানা গেছে, বরাদ্দের টাকা তারা নামমাত্র কাজ করে বাকি টাকা পকেটস্থ করেছেন।

উত্তর সুখাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফরোজা খাতুনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই তার স্বামীকে হাতে ফোন তুলে দেন। প্রধান শিক্ষকের স্বামী জানান, ‘আমার স্ত্রী দুবার স্ট্রোক করেছে। যা বলেন আমাকে বলেন, আমি সবকিছুই জানি।’ বরাদ্দের টাকার কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন ,‘আমার স্ত্রী যতটুকু কাজ করেছে পাশের স্কুলগুলো খোঁজ নেন। আমার স্ত্রীর তাদের তুলনায় একটু হলেও ভালো কাজ করেছে।’

আরও পড়ুন : স্কুল উন্নয়নে বরাদ্দের টাকায় নয়-ছয়, হিসাব চায় সরকার

নাগেশ্বরী উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানান, এসব কাজের প্রত্যয়ন পত্র উপজেলা প্রকৌশলী তদন্ত করার পর দেন এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার প্রত্যায়ন পত্র দেন। এসব বিষয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করে তথ্য নেন, আমাদের করার কিছুই নেই।
 
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যোগীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লক্ষীর খামার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চৈতার খামার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাঁনদের খামার খামার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলেতেও  দায়সারা ভাবে কাজ করা হয়েছে।

রাজারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একজন  রাজনৈতিক নেতার আত্মীয়র পরিচয় দিয়ে তার দায়সারা কাজের কথা এড়িয়ে যান। চৈতার খামার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গেলে স্থানীয়রা ঘিরে ধরে দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক নামমাত্র কাজ করেছে। তার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বেও অনেক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

mix tube bangali ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।